শনিবার, ৩ মার্চ, ২০১২

টয়োটা কোম্পানী রেশম গুটি পালন করত !


টয়োটা কোম্পানী রেশম গুটি পালন করত !


বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টয়োটা মোটর করপোরেশনের টয়োটা শব্দটি এসেছে এ কম্পানি মালিকদের আদিপুরুষ উদ্ভাবকদের রাজা খ্যাত সাকিচি টয়োডার (Sakichi Toyoda) নাম থেকে। জাপানের নাগোয়ার (Nagoya) দক্ষিণ-পূর্বে মধ্য-দক্ষিণ হনসু (Honshu) অঞ্চলেরকোরোমো (Koromo) নামের একটি শহর ছিল। ১৯৫৯ সালে এর নাম পাল্টে রাখা হয় টয়োটা সিটি (Toyota city)। অষ্টাদশ শতকের শেষ ও উনবিংশ শতকের শুরুর দিকে এ শহরের বাসিন্দারা রেশমি কাপড়ের কাচামাল, রেশম গুটিউত্পাদনের সঙ্গে যুক্ত ছিল। বলা বাহুল্য, হাতে চালানো তাতে খুবই ধীর গতিতে রেশম গুটি থেকে তৈরি হতো রেশমি কাপড়। পরবর্তী সময়ে দেশ-বিদেশে রেশমি কাপড়ের চাহিদা কমে যাওয়ায় সাকিচি টয়োডা (Sakichi Toyoda) নামের ওই শহরের এক বাসিন্দা মনোনিবেশ করেন যন্ত্রচালিত তাত উদ্ভাবনের দিকে। এ কাজে দুটো পয়সার মুখ দেখতে শুরু করেন তিনি। নতুন কিছু করার আগ্রহের সৃষ্টি সেই থেকেই। এ আগ্রহ আরো বেড়ে যায় তার টয়োডা অটোমেটিক লুম কম্পানি উদ্ভাবিত এ রকম একটি মেশিনের পেটেন্ট বৃটেনের প্ল্যাট ব্রাদার্স (Platt Brothers)-এর কাছে ১০ লাখ ইয়েনে (Yen) (জাপানি মুদ্রা) বিক্রি থেকে। সে সময়ে প্রাপ্ত বিপুল ওই অর্থ সাকিচি টয়োডা বিনিয়োগ করেন গাড়ির ইঞ্জিন বানানোর কাজে। এ নতুন উদ্ভাবনী কাজের দায়িত্ব দেয়া হয় সাকিচি টয়োডার ছেলে কিচিরো টয়োডাকে (Kiichiro Toyoda)। ১৯৩৫ সাল নাগাদ প্রথমবারের মতো এ-ওয়ান মডেলের গাড়ির ইঞ্জিন উদ্ভাবনে সক্ষম হন কিচিরো টয়োডা। এরপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি টয়োডা পরিবারকে।-উইকিপিডিয়া থেকে ।

রেশম শিল্পকে বাঁচাতে কার্যকর সিদ্ধান্ত এখনই নিতে হবে




রেশম শিল্পকে বাঁচাতে কার্যকর সিদ্ধান্ত এখনই নিতে হবে


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক
শিক্ষার্থী, গণযোগাযোগ
ও সাংবাদিকতা বিভাগ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়



      রেশম শিল্পকে কেন্দ্র করেই রাজশাহী নগরীর বিকাশ। একসময় এ শিল্পের তৈরি ‘রাজশাহী সিল্কের’ মাঝে মানুষ খুঁজে পেত এ নগরীর পরিচয়। এটা ছিল এখানকার প্রাচীন ঐতিহ্য ও নামকরা দেশি ব্র্যান্ড । কিন্তু কালের গর্ভে সেই ঐতিহ্য আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাব, মুক্তবাজার অর্থনীতির প্রভাব আর একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে মন্দা পড়েছে এ শিল্পের। অবাধে বিদেশি সুতার আমদানির ফলে এ অঞ্চলের বসনীরা (তুঁতচাষী) ক্রমাগত লোকসানের বোঝা টানতে টানতে রেশম চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন। ক্রমাগত সুতার দাম বৃদ্ধি, উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত না হওয়ার ফলে কারখানাগুলো একের পর এক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু, সরকার নতুন নতুন শিল্প কারখানা স্থাপন তো দূরের কথা, সম্ভবনাময় এ খাতটিকেই গুরুত্ব দিচ্ছে না।বর্তমানে রাজশাহীতে একটি সরকারি ও ছোট-বড় মিলিয়ে মোট ৭৫ টি বেসরকারি শিল্প কারখানা রয়েছে । কিন্তু লোকসানের বোঝা নিয়ে ৯ বছর আগে বন্ধ হয়ে যায় সরকারি মালিকানাধীন রেশম কারখানাটি। একই সঙ্গে ঠাকুরগাঁও রেশম কারখানাটিও বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু এ দুটি কারখানা পুরোদমে চললে বছরে ৬ দশমিক ৪১ লাখ মিটার রেশম কাপড় উৎপাদন করা সম্ভব। যা দেশের বস্ত্রের চাহিদা মেটাতে বিরাট ভূমিকা রাখতে পারতো।
       আবার বৃহত্তর রাজশাহীতে যেসব শিল্প কারখানা রয়েছে সেগুলোতে বছরে সুতার চাহিদা ২৫০ থেকে ২৬০ টন। কিন্তু স্থানীয়ভাবে বছরে সুতা তৈরি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৪০ টন। অর্থাৎ সুতার চাহিদা মেটাতে বর্তমানে ২০০ টনেরও বেশি সুতা বিদেশ থেকে আমদানি করতে হচ্ছে। আগে চীন, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, জাপানসহ বিভিন্ন দেশ থেকে সুতা আসতো। কিন্তু বর্তমানে শুধু চীন থেকে সুতা আসছে। অদূর ভবিষ্যতে চীনও সুতা রপ্তানি বন্ধ করে দিবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বর্তমানে বিদেশি সুতা আসা কমে যাওয়ায় সুতার দাম দ্বিগুন-ত্রিগুন হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। আবার এই সুযোগেই বিদেশ থেকে সিল্ক কাপড় আমদানি করা হচ্ছে। ট্যাক্স কম থাকাতেই কিছু সুযোগ সন্ধানী ব্যবসায়ী এই সুবিধাগুলো নিচ্ছে। সর্বোপরি,দেশি সুতার সীমিত উৎপাদন, সুতা আমাদানি কমে যাওয়া, সিল্ক কাপড় সহজে আমদানি ইত্যাদি কারণে রেশম সেক্টরে অশনি সংকেত বিরাজ করছে।


একসময় বৃহত্তর রাজশাহী অঞ্চলে তুঁতচাষের ব্যাপক বিস্তার ঘটেছিল। এ অঞ্চলে কয়েক হাজার পরিবার তুঁতচাষ, পুলপালন, সুতা তৈরির সাথে জাড়িত ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে ভালো ডিমের অভাব, বিদেশি সুতার লাগামহীন অনুপ্রবেশের কারণে সুতার দাম কমে যায়। ফলে চাষীরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। দেশের বাইরে রেশম চাষের ক্ষেত্রে চীন, ভারত, ভিয়েতনাম,বুলগেরিয়া ব্যাপক উন্নতি সাধন করেছে । তারা গুটিতেও উন্নয়ন করেছে। আমাদের দেশেও রেশম গবেষণা ইনস্টিটিউট বিগত বছরগুলোতে রেশম চাষ প্রযুক্তি উন্নয়ন, তুঁত ও রেশম কীটের রোগদমন ব্যবস্থা সহ অনেক উন্নত তুঁত ও রেশমকীটের জাত উদ্ভাবন করেছে । রেশম শিল্পের এবং সুতার উৎপাদন বৃদ্ধিতে এই প্রতিষ্ঠানটি ব্যাপক ভূমিকা রাখলেও রেশম বোর্ডের আমলা নির্ভর ও প্রযুক্তি অজ্ঞ কর্মকর্তাদের আন্তরিকতার অভাবে উন্নত প্রযুক্তি ও জাত সমূহ মাঠ পর্যায়ে কৃষকের হাতে পৌছাতে না পাড়ায় কৃষক উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পাড়ছে না। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে সরকার এর কিছু ভুল সিদ্ধান্ত (বিদেশী সুতার ট্যাক্স কমানো ও অন্যান্য) নেওয়ার ফলে এ শিল্পের উন্নতি হচ্ছেনা ।তবে আশার কথা হল ব্র্যাক, প্রশিকা , কারিতাস ইত্যাদি এনজিও এর মাধ্যমে কিছু কিছু নতুন প্রযুক্তি এবং উন্নত জাত(তুঁত ও রেশমকীট)কৃষকের হাতে পৌছানো সম্ভব হয়েছে । কিন্তু বর্তমানে সরকার আবার রেশম বোর্ড , রেশম গবেষণা ইন্সটিটউট এবং সিল্ক ফাউন্ডেশন কে একত্রিত করার যে ভুল কার্যক্রম হাতে নিয়েছে তা এ শিল্পকে শেষ করার পথে আরও একটি মাইল ফলক হতে যাচ্ছে ।
        রেশম চাষ একটি শ্রমঘন কৃষিভিত্তিক শিল্প। কৃষি ও শিল্পের সমন্বয়ে রেশমের উৎপাদন প্রক্রিয়া চলে। এই পরিবেশবান্ধব শিল্প উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। একদিকে যেমন- তুঁতচাষ, রেশমপোকা পালন, গুটি উৎপাদন এবং বাজারজাতকরণ ইত্যাদি কৃষির পর্যায়ে পড়ে। অন্যদিকে থ্রোয়িং, রিলিং, টুইস্টিং বয়ন, ছাপা এবং রেশম বস্ত্র ফিনিশিং ইত্যাদি শিল্প পর্যায়ভুক্ত। এছাড়া বিশ্ববাজারে রেশম আজও অপ্রতিদ্বন্দী বস্ত্রসামগ্রী। তাই রেশম শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করলে দেশ অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাবে। এছাড়াও এ অঞ্চলের ৪০/৫০ হাজার এবং সারা দেশে প্রায় কয়েক লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এজন্য এ সেক্টরের প্রতিটি স্তরে স্তরে সৃষ্ট সমস্যাগুলো খুঁজে বের করতে হবে এবং উত্তরণের চেষ্টা চালাতে হবে। রেশম শিল্পের উন্নয়নের জন্য অনতিবিলম্বে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া জরুরী। যেমন- রেশম চাষীদের বিনাসুদে বা স্বল্পসুদে ঋণ দেওয়া, রেশমচাষের উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি, মানসম্মত গুটি উৎপাদন, উন্নত ডিম সরবরাহ, উৎপাদিত গুটির দামের ব্যাপারে লক্ষ্য রাখা, এ শিল্পে নিয়োজিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কে সতন্ত্র রেখেই তাদের প্রতি সরকার এর নজরদারী বৃদ্ধি করা, মানসম্মত সুতা উৎপাদন, সুতা চোরাচালান বন্ধ করাসহ পলুচাষীদের দিকে বিশেষভাবে নজর দিতে হবে। এছাড়াও রেশম বোর্ড ও রেশম কারখানার প্রায় একশ’ একর জমি রয়েছে; যা প্রতিনিয়ত দখলের চেষ্টা চলছে। এর আগে কারখানার বাইরের জায়গায় ‘গেইন ট্যাক্স’ নামের উদ্ভট পদ্ধতিতে দখল করে সেখানে মাকের্ট তৈরি করা হয়েছে। এখনও জমি দখলের পাঁয়তারা চলছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপকে এসব জায়গা পুনোরুদ্ধার এবং ভূমি সংরণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। তা না হলে রেশম শিল্প অচিরেই মুখ থুবড়ে পড়বে।
দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিকরা রেশম কারখানাটি চালুর জন্য আন্দোলন করে আসছে। পে-অফকৃত শ্রমিকরা পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছে। কিন্তু মহাজোট সরকারের প্রতিশ্রুতি থাকা সত্বেও বন্ধ শিল্প-কারখানাগুলো চালুর ব্যাপারে তেমন কোন উদ্যোগ চোখে পড়েনি। সরকার তিন’বছর অতিক্রম করলেও রাজশাহীর কোন কারখানাই এখনো চালু করেননি; যা অত্যন্ত দু:খজনক। তবে মাননীয় বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী গত ৪ জানুয়ারি এ কারখানাটি পরিদর্শন করেন। তিনি কারখানাটি চালুর ব্যাপারে সরকারের ইতিবাচক ভূমিকার কথা জানান। তিনি রেশম বোর্ড ও রেশম গবেষণা ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তা, সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এবং স্থানীয় সাংসদের সাথে এ ব্যাপারে মতবিনমিয় করেন। এটা একটি ইতিবাচক দিক । কিন্তু শুধু কমিটি গঠন, পরিদর্শন, পদক্ষেপ নিলেই চলবে না। অতি দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। এ অঞ্চলের ঐতিহ্য রক্ষার প্রয়োজনে লোকসান দিয়ে হলেও রেশম শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে।

শুক্রবার, ২ মার্চ, ২০১২

মাকড়সা রেশমের রহস্য উদঘাটন



মাকড়সা রেশমের রহস্য উদঘাটন





মাকড়সার জাল থেকে তৈরি রেশম কেন এত শক্ত হয়? এই প্রশ্নের উত্তর পেতে বছরের পর বছর ধরে চেষ্টা চালাচ্ছিলেন বিজ্ঞানীরা। সম্প্রতি অভিনব এই উপাদানের নির্মাণশৈলী সম্পর্কে কিছু তথ্য পেয়েছেন জার্মানির বিজ্ঞানীরা। জার্মানির ‘হাইডেলবার্গ ইন্সটিটিউট অফ থিয়রিটিক্যাল স্টাডিজ’ এর বিজ্ঞানীরা মনে করেন, তারা মাকড়সার জালের রেশমের গোপন রহস্যটি উদ্ঘাটন করতে পেরেছেন। ‘বায়োফিজিক্যাল’ পত্রিকার ফেব্রুয়ারি সংখ্যায় এই গবেষণাটি প্রকাশ করা হয়েছে।
মাকড়সার জালের সুতা অত্যন্ত মজবুত এবং একইসঙ্গে ইলাস্টিক বা প্রসারণ যোগ্য। তাই এর কারণ বের করতে বিজ্ঞানীদের অনেকদিনের প্রচেষ্টা। এখন বিজ্ঞানীরা দাবি করছেন, প্রকৃতির এই গুরু রহস্য উদ্ঘাটন করতে পেরেছেন তাঁরা। বলছেন, মাকড়সা থেকে তৈরি রেশমের সূক্ষ্ম গঠন সম্পর্কে তাঁরা জানতে পেরেছেন।
গবেষণার অন্যতম গবেষক ফ্রাউকে গ্রেটার সংবাদ সম্মেলনে বলছেন, ‘‘এই প্রাকৃতিক তন্তুর গঠনগত বৈশিষ্ট্য খুঁজে দেখার চেষ্টা করেছেন অনেকেই। এই গবেষণা এই তন্তুর গঠনগত বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য পেয়েছে। বিজ্ঞানীরা ইস্পাতের সঙ্গে এই তন্তুর দৃঢ়তার তুলনা করেন। বলেন, এটি টায়ারে ব্যবহৃত সিনথেটিক তন্তু কেভলারের চেয়ে শক্ত। অন্যদিকে এর ঘনত্ব সুতি বা নায়লনের চেয়ে কম।
ফ্রাঙ্কফুর্ট’এর সেংকেনব্যার্গ রিসার্চ ইন্সটিটিউট’এর অ্যারাকনোলজি বিভাগে মাকড়সা জাতীয় প্রাণীদের নিয়ে গবেষণা করা হয়। বিভাগের প্রধান পেটার ইয়েগার বলেন, গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্য মাকড়সার রেশম তৈরির কৌশল জানতে সাহায্য করছে, যা তন্তু তৈরির কারখানায় ব্যবহার করা যেতে পারে। কেননা এই গঠনশৈলী কৃত্রিম রেশম তন্তুর উন্নয়নে সাহায্য করতে পারে। জার্মানির একটি বার্তা সংস্থাকে তিনি বলেন, এরকম আরও অনেক উদাহরণ রয়েছে, যেখানে এই গবেষণা থেকে পাওয়া তথ্য কাজে লাগানো যেতে পারে।
বিজ্ঞানীদের গবেষণা বলছে, মাকড়সার তন্তুতে মূলত দু’টি প্রধান উপাদান দেখা যায়। একটি উপাদান নরম এবং এর কোন নির্দিষ্ট আকার নেই। অন্যটি শক্ত এবং অতি স্বচ্ছ৷ বিজ্ঞানীরা বলছেন, এর নরম উপাদানটি রেশমের স্থিতিস্থাপকতায় কাজ করে। যেখানে স্ফটিক স্বচ্ছ উপাদানটি এই তন্তুকে শক্ত করে তোলে। 
মাকড়সার তন্তু
সত্যিই কি সুপারহিরো এবার সভ্যতা বাঁচাবে, হাঁফ ছেড়ে বাঁচবে বিপদাপন্ন মানুষ। কিন্তু স্বপ্ন থমকে দাঁড়ায়। ইস্পাতাতীত দৃঢ় আর নাইলনাতীত নমনীয় তন্তু যে শিল্পকারখানায় তৈরি করা যাবে না। তবু স্বপ্ন ভাঙে না মুক্তিকামী মানুষের। ওরা (সুপারহিরোরা) আসবে বলে তাই, তারা পথ চেয়ে রয়।

স্বপ্ন জিইয়ে রাখে মাকড়সা
মাকড়সা আর্থ্রোপোডা পর্বের অষ্টপদী (চার জোড়া) প্রাণী। এরা সঞ্চিত শক্তি ব্যবহার করে কমপক্ষে আটবার পায়ের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধিতে সক্ষম। কখনও সখনও পঞ্চাশবার ব্লাডপ্রেসার বাড়িয়ে তৃতীয় ও চতুর্থ জোড়া পা দিয়ে এরা লাফও দিতে পারে। এদের দেহের সেরিবেলামে চার হাজারের মতো স্পাইগট থাকত। স্পাইগটদের কাজ ছিল ফেব্রিক তৈরি আর পোকামাকড়দের জালে জড়ানো। বহু বছরের বিবর্তনে মাকড়সার রেশম বা তন্তু বর্তমানের চটচটে তরল দ্বারা আবৃত্ত। স্পাইগটের কাজ এখন তন্তুই করে।
বিজ্ঞানীরা গবেষণা করছেন মাকড়সার তন্তুর গঠন ও প্রকৃতির রহস্য উন্মোচনে। এতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে অক্সফোর্ড সিল্ক গ্রুপ। তারা আত্মবিশ্বাসী যে এই গবেষণা, আইসিসের নতুন টার্গেট স্টেশনে রহস্য উন্মোচনে যথেষ্ট ভূমিকা রাখবে। আইসিস হল ইন্টারন্যাশনাল স্যাটেলাইট ফর আয়নোস্ফেরিক স্টাডিজ, যা পৃথিবীর আয়নমণ্ডল গবেষণার জন্য একটি কানাডিয়ান স্যাটেলাইট সিরিজ। এ সিরিজে এ পর্যন্ত চারটি কৃত্রিম উপগ্রহ উড্ডয়ন করা হয়েছে। আলোতি-১ ও আলোতি-২ এরপর ১৯৬৯ সালে ৩০ জানুয়ারি আইসিস-১ এবং ১ এপ্রিল ১৯৭১ আইসিস-২ উেক্ষপণ করা হয়। এগুলোকে ক্যালিফোর্নিয়া থেকে এবং ডেল্টা রকেটের মাধ্যমে উেক্ষপণ করা হয়। অক্সফোর্ড সিল্ক গ্রুপের অন্যতম বিজ্ঞানী ড. ক্রিস হল্যান্ড জানান, মাকড়সার তন্তু গবেষণায় তারা আইসিস-২ ব্যবহার করবেন। বায়োপলিমার ও প্রোটিনের ছবি নেওয়ার জন্য এতে যোগ করা হয়েছে নতুন টার্গেট স্টেশন।

রেশমের রসায়ন
মাকড়সারা জাল বুনতে ও তন্তু উত্পন্ন করতে সাত ধরনের ভিন্ন প্রকৃতির প্রোটিন ও অন্যান্য উপাদান ব্যবহার করতে পারে। মাকড়সার তন্তুগ্রন্থির ভেতরে জেলির মতো এক ধরনের তরল পদার্থ থাকে। এদের বলা হয় ডোপ। এ ডোপ থেকেই মাকড়সারা সুতা তৈরি করে। মূলত ডোপ হল জল ও জলে দ্রবণীয় প্রোটিনের মিশ্রণ, প্রবাহের সময় যারা গলিত পলিমার হিসেবে কাজ করে। যখন তা তন্তুগ্রন্থির ভেতর দিয়ে গমন করে তখন কঠিন বা দৃঢ় হয়ে যায়। 
বিজ্ঞানীরা জানেন, ডোপের উপাদান কী কী। তারা এর ভারসাম্য এবং কীভাবে তাদের তন্তু গ্রন্থি গঠিত, তা জানেন। তাহলে আমরা কেন পারব না মাকড়সার মতো আদর্শ শিল্প নৈপুণ্যের পোশাক বানাতে? সাহস করে বলছিলেন ড. হল্যান্ড। মাকড়সার ডোপের মতো তাতে স্ফটিক অবস্থান প্রাপ্তির জন্য দরকারি সব শর্ত জোগান দিচ্ছেন হল্যান্ড ও তার দল। এর জন্য তারা সহযোগিতা পাচ্ছেন আইসিস-২ এর নতুন টার্গেট স্টেশন থেকে। স্বাভাবিক এবং তন্তুগ্রন্থির ভেতর দিয়ে প্রবাহের সঙ্গে উভয় প্রকৃতিতে ডোপের প্রোটিন ও অন্যান্য উপায় পরিমাপ ও পরীক্ষণে ব্যবহূত হচ্ছে আইসিস-২। তন্তু কাটতে মাকড়সারা কী ধরনের পরিবেশ তৈরি করে, পর্যবেক্ষণ করছে হল্যান্ডের দল। যদি জলে রেশমে প্রোটিন দ্রবণ পাওয়া যায়, তবে জানা যাবে কী কাঠামোয় তারা আছে এবং জানা যাবে কীভাবে কাঠামো পাল্টাচ্ছে প্রবাহের সময়। কীভাবে রেশম পুঞ্জীভূত থাকে এটিই হল রহস্য মোচনের মূল চাবিকাঠি।

ডোপ টেস্টার লক
শুধু আইসিস-২ নয়, আইসিস-১ ব্যবহূত হচ্ছে এ গবেষণায়। আইসিস-১ এ ২০০ মিটার লম্বা নিউট্রন বিমের সূক্ষ্মাগ্র প্রান্তে ডোপের কয়েক ফোঁটা ছেড়ে দিয়ে লক (খঙছ) দিয়ে গবেষণা চলছে। লক হল ডোপের প্রোটিন ও অন্যান্য বায়োপলিম পরিমাপের যন্ত্র। মূলত এটি একটি সূক্ষ্মকোণী নিউটন বিচ্ছুরণ যন্ত্র। লকের পাশাপাশি প্রোটিন ও অন্যান্য উপাদানের মতো রসায়ন জানতে গবেষকরা ব্যবহার করছেন রিয়োমিটার।

গুটিপোকার ডোপ
সরাসরি মাকড়সা ডোপ নিয়ে গবেষণার পরিবর্তে পরীক্ষাগারে নেওয়া হয়েছে গুটিপোকার ডোপ। বস্তুত, গুটিপোকার রেশম মাকড়সার রেশম থেকে ভিন্ন। ‘কিন্তু প্রোটিন প্রবাহের পথ পরিক্রমা একই।’ গুটিপোকার ডোপ নেওয়ার যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করলেন ড. হল্যান্ড। এটি আমাদের জন্য সুসংবাদ, কারণ মাত্র কয়েকদিনেই একটি গুটিপোকা এক কিলোমিটার পরিধির রেশমগুচ্ছ নিঃসরণ করতে পারে। ফলে গবেষণার জন্য অনেক বেশি পরিমাণে রেশম পাওয়া যাচ্ছে, যা গুটিপোকার ডোপ ব্যবহারের অন্যতম যৌক্তিক কারণ। আইসিস-১ এর যন্ত্রবিজ্ঞানী ড. অ্যান টেরি পলিমারে স্ফটিকায়ন বৈশিষ্ট্য লাভের বিষয়টি গবেষণা করছেন। তবে আইসিস-২ এর দিকেই তাকিয়ে আছেন তিনি এবং হল্যান্ডের সহ-গবেষকরা। কারণ এতে থাকছে উচ্চ ফ্লাক্সের নিউট্রন বিম যা অপেক্ষাকৃত ২০ থেকে ৪০ গুণ উজ্জ্বল বায়োপলিমারকে পরীক্ষা করার জন্য নির্দেশকও যেখানে উত্তম স্থানাঙ্কে রয়েছে। ড. টেরি এর সঙ্গে যোগ করে বলেন, ‘আগে আমরা জানতাম না, সমস্যাটা কোথায় ছিল, কোনটা স্পিন করা হয় নাকি কীভাবে স্পিন করা হয়। গবেষণার সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি জানান, ‘টার্গেট স্টেশন-১ বলছে আমরা সঠিক পথে পা ফেলেছি, আর নিশ্চিত করবে টার্গেট স্টেশন-২।’

রেশম পোকা দিয়ে মাকড়শার জালের সূতা


বিজ্ঞানীরা জেনেটিক গঠন পরিবর্তন করে রেশমপোকা দিয়ে মাকড়শার জাল তৈরির সূতা তৈরি করতে পেরেছেন। এ ভাবে রেশমপোকা দিয়ে মাকড়শার জালের সূতার মত যে সুতা তৈরি হয়েছে তার গুণাগুণ অবিকল প্রাকৃতিকভাবে তৈরি মাকড়শার সূতার মতই হয়েছে। চিকিৎসা ও বস্ত্রখাতে এ ধরণের সূতার ব্যাপক ব্যবহার সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এর আগে বিজ্ঞানীরা কেবল গবেষণাগারের নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে মাকড়শার জালের মতো সূতা অতি সামান্য পরিমাণে তৈরি করতে পারতেন। সেগুলো গবেষণার কাজে ব্যবহৃত হলেও ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা সম্ভব ছিলো না। গতকাল মার্কিন বিজ্ঞানীরা এ খাতে সাফল্যের খবর দিয়েছেন।
রেশম পোকা দিয়ে মাকড়শার জালের সূতা তৈরির গবেষণার সাথে জড়িত ছিলেন দুই বিজ্ঞানী। তারা হলেন, নটরড্যাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োলজিক্যাল সায়েন্সের অধ্যাপক ম্যালকম ফ্রেসার, উয়োমিং বিশ্ববিদ্যালয় ও ক্রেইগ বায়োক্রাফট ল্যাবরেটরিজের বায়োকেমিষ্ট র্যা ন্ডি লুইস। চিকিৎসা ও চিকিৎসা বহির্ভূত খাতে উন্নত মানের রেশম সূতা ব্যবহারের ক্ষেত্রে এ গবেষণা উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছে বলে জানিয়েছেন অধ্যাপক ম্যালকম ফ্রেসার। তিনি আরো বলেছেন, বস্তুবিজ্ঞান, অনেক দিন ধরেই মাকড়শার জালের সূতার গুণযুক্ত রেশম সূতা তৈরির চেষ্টা করে আসছে। এটি বিজ্ঞানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিলো। এমন কাজ কেনো বিজ্ঞানের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হিসাবে বিবেচিত হয়েছে মাকড়শার জালের সূতার গুণাগুণের দিকে তাকালেই তা বুঝা যাবে।
এ ধরণের সূতার অসাধারণ কিছু গুণ আছে। মাকড়শা জাল তৈরির জন্য যে সূতা তৈরি করে প্রাকৃতিক ভাবে তৈরি রেশম সূতার প্রসারণ ক্ষমতা ও স্থিতিস্থাপকতা তার চেয়ে অনেক বেশি। যে সব বিজ্ঞানী এ গবেষণা প্রকল্পের সাথে জড়িত ছিলেন, তারা বলেছেন, জিনের পরিবর্তন করে রেশম পোকার মাধ্যমে মাকড়শার জালের সূতা পাওয়া গেছে তার মধ্যে প্রাকৃতিক সব গুণই রয়েছে।
নতুন এ সূতা ব্যবহারের কথা বলতে যেয়ে তারা জানান, নতুন এই সূতা চিকিৎসার ক্ষেত্রে বিশেষ করে ক্ষত স্থানে সেলাইয়ের কাজে চমৎকার উপাদান হিসাবে ব্যবহৃত হতে পারে। কিংবা ক্ষতস্থান মুড়ে দেয়ার জন্য উন্নতমানের ব্যান্ডেজ এ সব সূতা দিয়ে তৈরি করা যাবে। ট্যান্ডন বা লিগামেন্ট জোড়া দেয়ার কাজেও এ ধরণের সূতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারবে।
এ ছাড়া চিকিৎসা ক্ষেত্রের বাইরেও এ ধরণের সূতা ব্যবহারের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এ জাতীয় সূতা দিয়ে বুলেটপ্রুফ পোশাক তৈরি করা যাবে। যা হবে ওজনে হালকা কিন্তু বর্তমানে প্রচলিত এ জাতীয় পোশাকের চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর। এ ছাড়া এ সব সূতা দিয়ে মজবুত ও হালকা নানাধরণের কাঠামো বানানো যাবে। বানানো যাবে ক্রীড়াবিদদের জন্য নতুন জাতের পোশাক।
এ ছাড়া দুর্ঘটনার হাত থেকে গাড়ির চালককে রক্ষার জন্য যে এয়ারব্যাগ তৈরি হয় তাও বানানো যাবে এ সূতা দিয়ে। নতুন জাতের এসব এয়ারব্যাগ প্রচলিত পণ্যের চেয়ে গুণে মানে অনেক ভাল হবে। এ প্রকল্পের সাথে জড়িত বিজ্ঞানীরা কেবল যে তাদের তৈরি নতুন সূতার রকমারি ব্যবহারের দিকই তুলে ধরেছেন তা নয়। বরং তারা আরো জানিয়েছেন, প্রাকৃতিক ভাবে মাকড়শা জালের জন্য যে সূতা তৈরি করে, জেনেটিক পরিবর্তনের মাধ্যমে সে জাতীয় সূতা তৈরি করার সময় তার গুণ ও মানের উন্নয়ন ঘটানো হয়েছে। নতুন এ সূতায় রেশম ও মাকড়শার সূতার গুণের সমন্বয় ঘটেছে। মাকড়শা জালের যে সূতা তৈরি করে তার চেয়ে মজবুত হয়েছে নতুন এ সূতা, এ ছাড়া স্থিতিস্থাপকতাও বেড়েছে বলে তারা জানান ।




খাদ্য ও বিকিরণ জীববিজ্ঞান ইনস্টিটিউট (আইএফআরবি)


খাদ্য  বিকিরণ জীববিজ্ঞান ইনস্টিটিউট (আইএফআরবি)
সাভারস্থ খাদ্য ও বিকিরণ জীববিজ্ঞান ইনস্টিটিউট (আইএফআরবি) মূলত পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে খাদ্যশস্য, মাছ, মসলা, শুঁটকি মাছ, ইত্যাদি সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ, বিভিন্ন সামগ্রী জীবাণুমুক্তকরণ, কীট দমন,ইত্যাদি নানাবিধ গবেষণা ও উন্নয়নমূলক কাজে সম্পৃক্ত আছে। এ ইনস্টিটিউটের ৫০,০০০ ক্যুরি ক্ষমতা সম্পন্ন গামা সোর্সের সাহায্যে খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সংরক্ষণ, কৃষিজাতপণ্য জীবাণুমুক্তকরণ, বালাই দমন (pest control) ও চিকিৎসাসামগ্রী জীবাণুমুক্তকরণ বিষয়ক গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এ ছাড়া অত্র ইনস্টিটিউট বিভিন্ন সরকারী এবং বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে বিকিরণ প্রযুক্তি প্রয়োগ করে জীবাণুমুক্তকরণের সেবা প্রদান করে আসছেপ্রতিবেদনকালীন সময়ে এসকল সেবাদানের মাধ্যমে অত্র ইনষ্টিটিউট ৪,৮৭,২২৫ (চার লক্ষ সাতাশি হাজার দুইশত পঁচিশ) টাকা আয় করেছে। 
বিগত অর্থ বছরে অত্র ইনস্টিটিউটের অধীনে  নিম্নে বর্ণিত ৬টি বিভাগ ও ১টি ইউনিট কর্তৃক গৃহিত/সম্পাদিত উল্লেখযোগ্য গবেষণা কার্যক্রমের সংক্ষিপ্ত বিবরণ ধারাবাহিকভাবে  উপস্থাপন করা হলো:
ক.   এগ্রোকেমিক্যাল এন্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ
এগ্রোকেমিক্যাল এন্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ বিভাগ কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ নির্ণয় এবং জমিতে ব্যবহৃত এই সমস্ত কীটনাশকের উপর পরিবেশের প্রভাব, চলাচল ও পরিণতি বিষয়ে গবেষণা কর্মকান্ড পরিচালনা করে আসছে। এছাড়া,নির্ধারিত চার্জ প্রদান সাপেক্ষে বিভিন্ন সরকারী/বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে কীটনাশকের অবশিষ্টাংশে বিশ্লেষণ বিষয়ক সেবা প্রদান অব্যাহত আছে
গবেষণা কার্যক্রম : প্রতিবেদনাধীন সময়ে বাগেরহাট জেলার আন্তর্গত বাগেরহাট উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের ( যাত্রাপুর, বাগেরহাট পৌরসভা, সাতগম্বুজবেমার্তা এবং কড়াপাড়া ইউনিয়ন) পরিবেশের নমুনায় কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ নির্ণয়ের জন্য একটি জরীপ করা হয়। উক্ত জরীপে পরিলক্ষিত হয় যে, বাগেরহাট উপজেলার  চিংড়ী ঘের সংলগ্ন ধানক্ষেতের পানি ও মাটির নমুনায় ডিডিটি, ডিডিডি, ক্লোরোপাইরিফস, ডায়াজিনন এবং ম্যালাথিয়নের কোন অবশিষ্টাংশের উপস্থিতি  পাওয়া যায়নি
সেবাদান: এসময়ে বৃটিশ আমেরিকান টোবাকো কোম্পানী (বাংলাদেশ) কর্তৃক প্রেরিত ৫টি পানি ও ৩টি মাটির নমুনায় কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ বিশ্লেষণের মাধ্যমে ১,২০,০০০/- (এক লক্ষ বিশ হাজার) টাকা আয় হয়েছে
খ.   ফুড টেকনোলজি
গবেষণা কর্মকান্ড
১)    প্রসেস কন্ট্রোল, একসেপটেন্স এন্ড কর্মাশিয়ালাইজেশন অব দি ইরেডিয়েটেড সলটেড  ডিহাইড্রেটেড হিলসা ফিস :শুস্ক লবণ : মাছ  (১:৩) এবং  কিলোগ্রে গামা ইরেডিয়েশন, সংরক্ষিত তাপমাত্রা ৫-৬ ডিগ্রী সে:ব্যাপকভাবে পচনশীলতা রোধ করে
২)   তাজা  শুস্ক ওয়েষ্টার মাশরুমের এর গুণাগুণ নির্ণয়: ফলাফলে দেখা গেছে যে শুকনা মাশরুমে পুষ্টি পরিমাণবেশী থাকে কারণ  তাজা মাশরুমের তুলনায় শুকনা মাশরুমে পানির পরিমাণ কম থাকে
৩)   সহজলভ্য খাদ্য প্রস্তুতকরণ: পেপে পাওডার, কলার চিপস এবং পাটের পাতা পাওডার প্রস্তুত  করা হয়েছে এবংকক্ষ তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করে এর গুণাগুণ নির্ণয় প্রক্রিয়াধীন আছে
৪)   গামা রশ্মির মাধ্যমে রাস্তার পাশের  খাদ্যের গুণাগুণ নির্ণয় করা: চাউলের তৈরী খাদ্যের গুণাগুণ নির্ণয় করাহয়েছে
মানব সম্পদ উন্নয়ন : ঢাকা পলিটেকনিক এর ১০ জন ছাত্র-ছাত্রী কে ইন হাউজ ট্রেনিং দেওয়া হয়েছে এবং  জনএম এসসি ছাত্র কে থিসিস সম্পাদনের জন্য গাইড করা হয়েছে 
আয়:   সময়ে সেবাদানের মাধ্যমে  মোট আয় হয়েছে ২৩,১০০/- (তেইশ হাজার একশত) টাকা                       
প্রকাশনা :  আন্তর্জাতিক  জাতীয় জার্ণালে  টি গবেষনা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে
গ.   কীট জীব প্রযুক্তি
পারমাণবিক ও উন্নততর জীবপ্রযুক্তি ব্যবহার করে কীট পতঙ্গ দমন ও ব্যবস্থাপনা এ বিভাগের কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য কীট পতঙ্গ মূলত কৃষিজ পণ্যের আপদ  এবং মানুষ ও অন্যান্য জীবজন্তুর বিভিন্ন রোগের বাহক হিসেবে কাজ করেএখন পর্যন্ত কীট পতঙ্গ দমনে প্রধানত রাসায়নিক বালাইনাশক ব্যবহৃত হয়, কিন্তু এ সব  রাসায়নিক বালাইনাশক মানুষ ও পরিবেশের জন্যও ক্ষতিকর। এ প্রেক্ষিতে কীট পতঙ্গের আপদ ব্যবস্থাপনার বিকল্প পদ্ধতি উদ্ভাবনের লক্ষ্যকে সামনে রেখে এই বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে । প্রতিবেদন কালে এ বিভাগে নিম্নবর্ণিত গবেষণা ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালিত  হয়েছে
১)    অধিক রেশম সূতা উৎপাদনে গামা রশ্মির প্রভাব
বিকিরিত ও  অবিকিরিত বহুচক্রী রেশমকীটের ডিম হতে উৎপাদিত রেশম সূতার গুণাগুণ পরীক্ষা করে ফলাফলে দেখা গেছে বিকিরণ প্রয়োগের ফলে অধিকতর সূতার দৈর্ঘ্য, ভালো ডেনিয়ার মান এবং রিলিং এর সময় সূতারbreakage কম হয়। অত্র বিভাগের বিজ্ঞানীরা এবং বাংলাদেশ রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট, রাজশাহী-এর বিজ্ঞানীরা যৌথভাবে এ কার্য সম্পাদন করেছে
২)    অধিক সিল্ক প্রোটিন উৎপাদন  প্রেটিনের তাপ সহনীয় ক্ষমতা
রেশম কীটের ডিমে গামা রশ্নি (১.৫ গ্রে) প্রয়োগে প্রায় ৪৮% সিল্ক প্রোটিন উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। ফাইব্রোয়িন ও সেরিসিন প্রোটিনের মধ্যে ফাইব্রোয়িন প্রোটিন অধিকতর তাপ সহনীয়। গামা রশ্নি প্রয়োগ থেকে অধিকতর তাপ সহনীয় ফাইব্রোয়িন প্রোটিন (হেভী ও লাইট চেইন) উৎপাদন সম্ভব হয়েছে
৩)    পুরুষ নিধন পদ্ধতিতে আম আক্রমনকারী ফলের মাছি Bactrocera dorsalis and B. zonata এর নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত গবেষণা:
মিনারেল ওয়াটার বোতলে মিথাইল ইউজিনল লিউর দিয়ে ফাঁদ তৈরী করে ফলের মাছি ধরে মেরে ফেলা হয় গড়েপ্রতিদিন ১৭৫ টি মাছি প্রতি ফাঁদে মারা যায় উল্লেখিত ফাঁদ-এর কার্যকারীতার ফলাফলে আম চাষীরা আগ্রহ প্রকাশকরেছেন এবং কিছু আম চাষী  কীট জীবপ্রযুক্তি বিভাগের মধ্যে আরও ফাঁদের ব্যবহার  আমে পোকার আক্রমনসংক্রান্ত কাজে সহায়তামূলক সমঝোতা হয়েছে
৪)    দেশজ মশা নাশক ব্যকটেরিয়া Bacillus sphaericus এর মশার উপর কার্যকারীতা এবং এই ব্যাকটেরিয়ার বাইনারী প্রোটিন এর তাপ সহনীয়তা:
ঢাকার সাধারণ মশা Culex quinquefasciatus-i শুককীট এর উপর Bacillus sphaericus হতে আহরিতপ্রোটিনের মশা নাশকতার মান (LC50) মান নির্ধারণ করা হয়েছে মশা নাশক  বাইনারী  (Bin) প্রোটিন 70°C পর্যন্ত তাপ সহনশীল কিন্তু ৮০ সে. তাপে তাদের কার্যকারীতা নষ্ট হয়ে যায়। Bin প্রোটিন-এর মধ্যে ৪২ kDa  প্রোটিন ৫১kDa প্রোটিন অপেক্ষা বেশী তাপ সহনশীল
একাডেমিক কার্যক্রম
থিসিস তত্ত্বাবধানঃ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আগত মোট ৬ জন ছাত্র- ছাত্রীকে  থিসিস তত্ত্বাবধান সেবা প্রদান করা হয়েছে
প্রকাশনা: এ সময়ে  গবেষণা কর্মের উপর আর্ন্তজাতিক জার্ণালে ২ টি  ও দেশীয় জার্ণালে ৫ টি বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে
ঘ.   মাইক্রোবায়োলজি এন্ড ইন্ডাসট্রিয়াল ইরাডিয়েশন
গবেষণা  উন্নয়ন কার্যক্রম
১. রেডিয়েশন ও কম্বিনেশন ট্রিটমেণ্টের মাধ্যমে মৎস্য ও মৎস্যজাত দ্রব্যাদির সংরক্ষণ
১.১   ম্যাকারাল ফিসের জীবাণুর উপর পরীক্ষা:
ম্যাকারাল ফিসের সংশ্লিষ্ট জীবাণু আইসোলেট করে সনাক্তকরণের কাজ করা হয়েছে এবং ম্যাকারাল ফিসের সংশ্লিষ্ট জীবাণুর উপর নিম্ন তাপমাত্রার প্রভাবের পরীক্ষার কাজ করা হয়েছে। সর্বমোট ৬৪ টি ব্যাকটেরিয়া আইসোলেশন করে সনাক্তকরণের কাজ শেষ করা হয়েছে। সংরক্ষণকালীন সময়ে নিম্ন তাপমাত্রায় সংশ্লিষ্ট জীবাণু ক্রমাগতভাবে কমতে থাকে বলে প্রতীয়মান হয়েছে
২.    অণুজীবের মাধ্যমে শিল্পজ রাসায়নিক বর্জ্যের নিয়ন্ত্রণ
২.১   মিশ্র জীবাণু দ্বারা ফেনলের জৈব বিশ্লেষণ:

Immobilization পদ্ধতিতে দুইধরনের Pseudomonas জাতীয় ব্যাকটেরিয়া ৭২ ঘণ্টায় ৬০০ পিপিএম ফেনল ভাঙ্গতে পারে। ব্যাকটেরিয়ার বংশ বিস্তার এবং ফেনল ভাঙ্গার ক্ষমতার তুলনামূলক পর্যবেক্ষণে দেখা যায় যে, বংশ বিস্তারের সাথে সাথে ফেনল-এর মাত্রা কমে যায়
৩.    চিংড়ি খোসা থেকে কাইটিন এবং কাইটোসান তৈরী এবং বিকিরণের মাধ্যমে অণুজীব বিনষ্টকারী পদার্থে রূপান্তর:
৩.১   রাসায়নিক ট্রিটমেণ্টের মাধ্যমে চিংড়ির খোসা থেকে কাইটোসান উৎপাদন এবং পঁচা কমলা থেকে আইসোলেট করা জীবাণু ধ্বংসে এর ব্যবহার। রাসায়নিক ট্রিটমেণ্টের মাধ্যমে কাইটোসান উৎপাদন এবং তা দিয়ে ৩% ল্যাকটিক এসিডে ০, , ১৬ এবং ৩২ kGy মাত্রার কাইটোসান ওলিগোমার দ্রবণ তৈরী করা হয়। ৩২ kGyমাত্রার কাইটোসান ওলিগোমার পঁচা কমলা থেকে পৃথকীকৃত জীবাণুকে ধ্বংস করার কাজে বেশী কার্যকর
৪.    ছত্রাক মিউটেণ্ট ব্যবহার করে lignocellulosic কৃষিজ বর্জ্যকে খাদ্য, পশু খাদ্য এবং জ্বালানীতে রূপান্তর
৪.১   Lignocellulosic জাতীয় কৃষিজ বর্জ্যের ব্যবহার:
10 kGy বিকিরণ প্রয়োগে আখের ছোবরায় অবিকিরিত ছোবরার তুলনায় ৩ গুণ বেশী reducing sugar তৈরী হয়
ঙ.   উদ্ভিদ জীব প্রযুক্তি  জীন প্রকৌশল
অত্র  বিভাগের গবেষণা কার্যক্রম নিম্নবর্ণিত গবেষণা ও উন্নয়ন প্রোগ্রামের আওতায় চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে: (১) ইন ভিট্রো মিউটাজেনেসিস ও ডাবল হ্যাপ্লয়েডের মাধ্যমে কলার উন্নয়ন সাধন (IAEA/CRP)(২) ইনডিউসড  মিউটেশনের মাধ্যমে ধানের গুণগতমান উন্নয়ন (FNCA)(৩) মিউটেশন ও জীব প্রযুক্তির মাধ্যমে ধানের ফলন বৃদ্ধি ও লবণাক্ততা সহিষ্ণু জাতের উন্নয়ন সাধন (IAEA/RCA)(৪) টিস্যুকালচার পদ্ধতিতে গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী উদ্ভিদের দ্রুত সংখ্যা বৃদ্ধি এবং (৫) এগ্রোব্যাকটেরিয়াম দ্বারা জিন স্থানান্তরের মাধ্যমে উদ্ভিদের উন্নয়ন ঘটানো 
পরাগধানী থেকে উৎপাদিত কলাগাছের প্লয়ডি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে যে এদের সকলেই ডিপ্লয়েড । আবার গামারশ্মি প্রয়োগকৃত সবরী কলার শিশু বিটপ থেকে উৎপাদিত নতুন গাছগুলিতে যে ফল এসেছিল সেখানে ফলনে তেমন কোন উল্লেখযোগ্য  পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয়নি। সমুদ্র উপকুলের জেলা থেকে সংগ্রহ করা আসফল জাতের ধানের  M2 বংশধর থেকে নাবি/ভিন্নতর দানা বিশিষ্ট গাছ বাছাই করা হয়েছে। এছাড়া জাপান এটমিক এনার্জি এজেন্সির রেডিয়েশন অ্যাপায়েড বায়োলজি বিভাগ থেকে কার্বন আয়ন বীমের সাহায্যে আসফল ও ইজ-২৯ জাতের ধানের বীজে রেডিয়েশন প্রয়োগ করা হয়েছে যা চলতি বছরে মাঠ পর্যায়ে পরীক্ষণ করে মূল্যায়ন করা হবেপেপের কঁচি পাতা থেকে সোমাটিক এম্ব্রায়োজেনেসিসের মাধ্যমে, জারবেরা ফুলের ক্যাপিচুলাম থেকে এবং ঔষধী গাছ পূণর্নভার শিশু বিটপ ও পর্বসন্ধি থেকে টিস্যুকালচারের মাধ্যমে চারা উৎপাদন সমভব হয়েছে। এগ্রোব্যাকটেরিয়ামের মাধ্যমে পেপে গাছের জিন স্থানান্তর সমভব হয়েছে যা ট্রান্সজেনিক পেপে গাছের পাতায় এটঝ-জিনের প্রকাশের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে
একাডেমিক কার্যক্রম
থিসিস তত্ত্বাবধান: পি এইচ ডি : ২ জন, এম. ফিল : ১ জন, এমএসসি: ২ জন, বিএসসি (সম্মান): ১ জন
প্রকাশনা: জাতীয় জার্ণালে  ৫ টি বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে
চ.   বিকিরণ কীটতত্ত্ব  মাকড়তত্ত্ব
বিকিরণ কীটতত্ত্ব ও মাকড়তত্ত্ব বিভাগে প্রধানত: গুদামজাত কৃষিপণ্যের অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ আপদ পোকা মাকড় অবদমনে সম্ভাব্য ক্ষেত্রে পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার সমৃদ্ধ পরিবেশ বান্ধব দমন পদ্ধতির উদ্ভাবন বিষয়ক গবেষণা করা হয় 
১)    বঙ্গোপসাগরের উপকূলবর্তী এলাকা ও উপকূল অদুরবর্তী দ্বীপসমূহে মাছ শুঁকিয়ে শূঁট্‌কী তৈরীকরণ সময়কালের আপদ ব্লো-ফ্লাই, লুসিলিয়া কিউপ্রিনা বন্ধ্যা পোকা প্রযুক্তি প্রয়োগে অবদমন:
সামুদ্রিক মাছ শুকানোর সময়কালের আপদ মাছি লুসিলিয়া কিউপ্রিনা অবদমনের লক্ষ্যে পরিচালিত ব্লো-ফ্লাই এস আই টি পদ্ধতির মাঠ পর্যায়ের সম্ভাব্যতা যাচাই সমীক্ষার কার্যক্রম খাদ্য ও বিকিরণ জীববিজ্ঞা্‌ন ইনষ্টিটিউট চত্ত্বরে ব্লো - ফ্লাই উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপনের পর পূর্নদ্দোমে এগিয়ে চলছে। ব্লো - ফ্লাই এস আই টি পন্ধতির মাঠ পর্যায়ের সম্ভাব্যতা যাচাই এর গবেষণায় উক্ত প্রতিপালন কেন্দ্রটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বর্ণিত সময়ে প্রতিবার ৫ লক্ষ হারে বন্ধ্যা মাছি সোনাদিয়ায় অবমুক্ত করা হয়েছে।  বর্তমানে সোনাদিয়ায় মাসে দুইবার ১০ লক্ষ হারে বন্ধ্যামাছি ছাড়ার ব্যবস্থা করা গেলে ব্লো-ফ্লাই এস আই টি পদ্ধতি কার্যকর হবে মর্মে ধারণা করা হচ্ছে। মাছি উৎপাদন, পরিবহন ও বন্ধ্যামাছি নিয়মিত ছাড়করণের কাজে অর্থসংস্থানের জন্য কমিশনসহ বিজ্ঞান এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখায় যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে
২)    বিকিরণ, উদ্ভিদ নির্যাস বা রাসায়নিক পদার্থ প্রয়োগে খাদ্য এবং কৃষিজাত পণ্যের পোকা মাকড় মুক্তকরণ :
মিঠাপানির ঝিনুক ও ইউনিওনিকলা প্রজাতির মাকড়ের পোষক/পরজীবী সম্পর্ক নিরুপণের গবেষণা চলছে। একাজে বর্তমানে পরজীবী মাকড় সনাক্তকরণের জন্য পরমাণু শক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠান  ও আশপাশের জলাভূমি হতে পোষক ঝিনুক লেমিলিডেন্স মারজিনালিজ সংগ্রহপূর্বক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে
৩)    পোকার ঘ্রাণেন্দ্রীয়ের ব্যবহারিক দিক: আপদ পোকা দমন :
গুদামজাত কৃষিপণ্যের আপদ পোকা মাকড় নিয়ন্ত্রণে এদের জীবন চক্রে আলো ও অন্ধকারের প্রভাব নিরুপণ বিষয়ক গবেষণা চল্‌ছে।  ঘ্রাণেন্দ্রীয়ের উপর আলো ও অন্ধকারের প্রভাব নিরুপণের কাজ এগিয়ে চলছে
৪)    পরিবেশ অভিযোজন এবং সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে লেপিডপটেরা বর্গের (প্রজাপতি ও মথ) এর বাস্তব্য বিদ্যার গবেষণা:
লেপিডপটেরা বর্গের মথ ও বাটার-ফ্লাই এর প্রজাতি সনাক্তকরণসহ পোষক গাছ পালার সাথে এদের সম্পর্ক নির্ণয়ের গবেষণা এগিয়ে চলছে। সাভারের বিভিন্ন অঞ্চল হতে পাইরিডি, লাইকেনিডি, স্যাটাইরিডি, প্যাপিলিওনিডি এবং হেসপিরিডি পরিবারের ১৮টি নতুন প্রজাতির প্রজাপতি সংগ্রহ ও সনাক্ত করা হয়েছে
একাডেমিক কার্যক্রম
থিসিস তত্ত্বাবধান: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের একজন পি এইচ ডি গবেষক অত্র বিভাগে গবেষণাকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন
প্রকাশনা : দেশীয় জার্ণালে প্রকাশিত বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধের সংখ্যা ৫টি
ছ.   গামা সোর্স            
প্রতিবেদনকালীন সময়ে গামা সোর্স বিভাগ নিম্ন বর্ণিত ইনষ্টিটিউট সমূহের গবেষণা স্যামপলে গামা রশ্মি প্রয়োগের সার্ভিস প্রদান করে। ইনষ্টিটিউটগুলি হল : খাদ্য ও বিকিরণ জীববিজ্ঞান ইনষ্টিটিউট (আই.এফ.আর.বি), টিস্যু ব্যাঙ্কিং এন্ড বায়োম্যাটেরিয়েল রিসার্চ ইউনিট (টি.বি.বি.আর.ইউ), ইনষ্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি (আই.এন.এস.টি) এবং তাদের যে সমস্ত স্যামপলে বিকিরণ প্রয়োগ করা হয়েছে তা হলো- কাইটোসান সল্যুশন,পেয়ারা,  ফ্রুট ফ্লাই পিউপা, বোন গ্রাফট, টিস্যু গ্রাফট, জিলাটিন সল্যুশন, পলিপ্রোপাইলিন, ব্যাকটেরিয়াল সাসপেনশন,সোডিয়াম এলজাইনেট, ফ্রেশ ফিশ, বায়ো পলিমার, ব্লো-ফ্লাই পিউপা, পলিমার, হাইড্রোজেল, রাবার ল্যাটেক্স  ইত্যাদি
এছাড়াও এই বিভাগ হতে বানিজ্যিকভাবে যে সমস্ত ফার্মাসিউটিক্যালস কোমপনীকে জীবাণুমুক্তকরণে সেবা প্রদান করা  হয়েছে সেগুলি হলো - দি একমি ল্যাবরেটরীজ লিঃ, হার্ভেস্ট ইনফার্টাইলিটি কেয়ার লিঃ, গ্যাকো ফার্মা লিঃ,পলিকন লিঃ, এরিস্টোফার্মা লিঃ, ইবনে সিনা ফার্মা লিঃ, ইলিয়াস এন্টারপ্রাইজ লিঃ, পপুলার ফার্মা লিঃ এবং তাদের প্রোডাক্টগুলি হলো - এমপটি এল্যুমিনিয়াম টিউব এবং প্লাষ্টিক কন্টেইনার, অপারেশনের দ্রব্যাদি এবং পানি,ফার্মাসিউটিক্যাল-এর কাঁচামাল, শেল ড্রেসিং, এমপটি প্লাষ্টিক কন্টেইনার ইত্যাদি। উল্লেখিত সময়ে গামা সোর্স বিভাগ ১০৬৭.০৮৩ সি.এফ.টি প্রোডাক্টে সেবা প্রদান করে ৩,২০,১২৫/- (তিন লক্ষ বিশ হাজার একশত পঁচিশ টাকা) মাত্র রাজস্ব আয় করেছে